slider

Recent

Powered by Blogger.

Populars

Archive

Technology

-mcarousel/LabelName or recent or random

Breaking News

[random][newsticker]

[news,seo,affiliate,freelancing,computer,site][featured2]
[blogger]
Navigation

চাকরি নেই, না দক্ষ লোকের অভাব!


অনেকগুলো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক এক ভদ্রলোক আমাকে ফোন করে প্রায় ভর্ৎসনার সুরে বললেন, ‘আপনারা কী সব নিয়ে লেখালেখি করেন? দেশের এক নম্বর সমস্যা নিয়ে তো কিছু লেখেনটেখেন না।’
আমি হেসে বললাম, ‘এক নম্বর সমস্যা কোনটা?’
‘শোনেন, মশিউল সাহেব, আমার প্রতিষ্ঠানে কিছু লোক দরকার। এক লাখ, দেড় লাখ টাকা বেতন দেব, দুই মাস ধরে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিচ্ছি, কিন্তু লোক পাচ্ছি না।’
‘বলেন কী? দেশে লাখ লাখ উচ্চশিক্ষিত বেকার ছেলেমেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর আপনি এত টাকা বেতন দিতে চেয়েও লোক পাচ্ছেন না?’
‘না, সত্যিই পাচ্ছি না। ইন্টারভিউ দিতে আসে, অনার্স–মাস্টার্স পাস করা তরুণেরা ইন্টারভিউ দিতে আসে, কিন্তু কিচ্ছু জানে না। ঢাকা ভার্সিটি থেকে ইংলিশে মাস্টার্স করে আসছে, দুইটা সেনটেন্স শুদ্ধ করে ইংলিশ লিখতে পারে না। কথা বললে মনে হবে আইকিউ লেভেল এত কম! দুনিয়ার কোনো খোঁজখবরই রাখে না।’
অভিযোগ নতুন নয়। ফলে আমার বিশেষ কোনো প্রতিক্রিয়া হলো না। শিল্পপতি ভদ্রলোক অবিরাম বলে চললেন। প্রায় সবই অভিযোগ। দেশের চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে দক্ষ লোক পান না বলে ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ইত্যাদি দেশ থেকে উচ্চ বেতনে লোক নিয়ে আসেন। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পসহ শিল্প ও সেবা খাতের উচ্চ স্তরের পদগুলোতে প্রচুর বিদেশি লোক কাজ করে, তারা হাজার হাজার ডলার নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।
ভদ্রলোক খেদের সঙ্গে আরও বললেন, আমাদের দেশে সরকারি–বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার হিড়িক লেগেছে, কিন্তু সেসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে যারা বেরোচ্ছে, তারা যে শুধু সার্টিফিকেট নিয়ে বেরোচ্ছে, সেদিকে কারও দৃষ্টি নেই: না শিক্ষকদের, না অভিভাবকদের, না শিক্ষার্থীদের নিজেদের। উচ্চশিক্ষিত তরুণ–তরুণীরা ডিগ্রি নিয়ে বেরিয়ে আসার পরেই দাবি জানায়, তাদের চাকরি দিতে হবে। কিন্তু চাকরি করার জন্য যে বিদ্যা, জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করা দরকার, সেটা তারা পুরো ছাত্রজীবন ধরে ভুলে থাকে। তারা নিজেদেরকে ঠকায়, মা–বাবাকে ঠকায়, জাতিকে ঠকায়; কারণ মা–বাবা ও রাষ্ট্র তাদের পড়াশোনার পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে।
বছর দুয়েক আগে আমি প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় ‘উচ্চশিক্ষিত বেকারদের অপরাধ কী?’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম। সেটি পড়ার পরেও ওই শিল্পপতি আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি সে কথা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘আপনারা তো শুধু পপুলার কথাবার্তা লেখেন। অপ্রীতিকর বাস্তব সমস্যাগুলো এড়িয়ে যেতে চান। তখনো আমি আপনাকে বলেছিলাম, উচ্চশিক্ষিত বেকারদের অপরাধ হলো, তারা ভালোভাবে লেখাপড়া করে শ্রমবাজারের জন্য দরকারি যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করে না, অথচ তারা দাবি করে, তাদেরকে চাকরি দিতে হবে।’
একপর্যায়ে আমি তাঁকে বললাম, ‘আপনার কথা তো শুনলাম। কিন্তু আমাদের দেশে মেধাবী তরুণ–তরুণী একেবারেই নেই, এটা কি হতে পারে?’
ভদ্রলোক বললেন, ‘মেধাবীরা সম্ভবত বিদেশে চলে যায়, নইলে আমরা পাই না কেন?’
‘একদমই পান না?’
‘পাই, খুবই কম। কিন্তু তাদেরও সমস্যা আছে।’
‘কী সমস্যা?’
‘সততার অভাব। বেশি চালাক, শর্টকাটে রাতারাতি অনেক টাকার মালিক হতে চায়। আমার প্রতিষ্ঠানে যতজন ব্রাইট ছেলেকে চাকরি দিয়েছি, তাদের কারও মধ্যে সততার লেশমাত্র দেখিনি। বারবার বিশ্বাস করেছি, বারবার প্রতারিত হয়েছি। প্রত্যেকর শুধু দুই নম্বরি ধান্দা; দুই নম্বর রাস্তা ছাড়া আর কোনো রাস্তা তাদের জানা নেই।’
ভদ্রলোকের কথায় বিরক্তি। সম্ভবত হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাঁর হতাশা দূর করার জন্য কিছু সান্ত্বনামূলক বা আশাব্যঞ্জক কথা বলা যেত, কিন্তু সে পথে গেলাম না। তিনি আমাকে বললেন, ‘এসব বিষয় নিয়ে লেখেন; আওয়ামী লীগ–বিএনপি নিয়ে লিখে কোনো কাজ হবে না। পলিটিশিয়ানরা
যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলবে, আপনারা লেখালেখি করে তাদের বদলাতে পারবেন না। তার চেয়ে যুবসমাজের জন্য লেখেন, কিছু কাজ হলেও হতে পারে। আলটিমেটলি যুবসমাজই তো আমাদের ভবিষ্যৎ, না কী বলেন?’

সায় না দিয়ে উপায় কী। কিন্তু যুবসমাজ নিয়ে কী লেখা যায়? তাদের উপদেশ–পরামর্শ দেওয়ার যোগ্যতা কি আমাদের আছে? তাদের যে অবস্থার কথা ওই শিল্পপতি ভদ্রলোক বললেন, তার জন্য কি শুধু তারাই দায়ী? না পুরো শিক্ষাব্যবস্থা, সমাজব্যবস্থা, রাজনীতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা দায়ী?
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও লেখক ড. আকবর আলি খান এক সাক্ষাৎকারের সময় প্রসঙ্গক্রমে আমাকে বলেছিলেন, বাংলাদেশের পুরো শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার করা প্রয়োজন। কারণ, তিনি মনে করেন, এই শিক্ষাব্যবস্থা সনদসর্বস্ব হয়ে পড়েছে, শিক্ষার গুণগত মান ভীষণভাবে নেমে গেছে এবং আরও নেমে যাচ্ছে।
ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার ছিলেন আনোয়ার চৌধুরী। আমি একবার তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম, তখন তিনি প্রসঙ্গক্রমে আমাকে বলেছিলেন, ‘আপনাদের দেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রতি মনোযোগী নয়। শিক্ষার্থীরাও ডিগ্রি অর্জনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। বাট ইউ নো, পিএইচডি হোল্ডারস আর নট নেসেস্যারিলি গুড ডেলিভারার্স?’ অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারীরা যে বাস্তব কাজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দক্ষ হবেন, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। আনোয়ার চৌধুরী আমাকে আরও বলেছিলেন, বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। এত বেশিসংখ্যক ছেলেমেয়ের অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে পড়াশোনা করার প্রয়োজন নেই। তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন বিভিন্ন কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা বাড়ানো।
গত দু–তিন দশকে বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবছর এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স–মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে যে বিপুলসংখ্যক তরুণ–তরুণী বেরিয়ে এসেছে ও আসছে, তাদের কর্মসংস্থান কোথায় কীভাবে হবে, তা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে কোনো চিন্তাভাবনা করা হয়েছে বলে মনে হয় না। তাই দেখা যাচ্ছে, বেকারদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিত তরুণ–তরুণীরাই আছে সবার ওপরে। সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট রিসার্চ (সিডার) নামের একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের কর্মসংস্থান ও শ্রমবাজার পর্যালোচনা করে থাকে। ২০১৭ সালে প্রকাশিত তাদের এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশে বেকারত্বের হার উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ যার ‘শিক্ষাগত যোগ্যতা’ যত বেশি, তার চাকরি পাওয়ার সুযোগ ও সম্ভাবনা তত কম। যারা দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে, তাদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু যারা অনার্স–মাস্টার্স পাস করেছে, তাদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। সুখের বিষয়, কম শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার দ্রুতগতিতে বেড়ে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যানের এই সত্য অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আমাদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি প্রীতিকরভাবেই অব্যাহত আছে; কিন্তু কর্মসংস্থান, বিশেষত উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান বাড়ছে না বলে প্রবৃদ্ধির সুসংবাদ এ দেশের লাখ লাখ তরুণ–তরুণীর হতাশা দূর করতে পারছে না।
এর বিপরীতে এ কথাও মিথ্যা নয় যে আমাদের শ্রমবাজারে দক্ষ লোকের বেশ ঘাটতি আছে। সেই ঘাটতি পূরণ করতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা–উদ্যোগের মালিকেরা বিদেশ থেকে লোক আনতে বাধ্য হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের ব্যবসায়ী–শিল্পপতি–উদ্যোক্তা সমাজের ৭৫ শতাংশই বলেছে, তারা তাদের প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগ করতে চায়, কিন্তু প্রয়োজনীয়সংখ্যক দক্ষ লোক পায় না। শিল্পপতি মনজুর এলাহী একবার প্রথম আলোর এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, বাংলাদেশের শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির অভাব প্রকট। ড. আকবর আলি খানের মতো তিনিও মনে করেন, এ দেশের উচ্চশিক্ষার গুণগত মান ভালো নয় এবং ক্রমেই তা আরও খারাপ হচ্ছে।
অর্থাৎ বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা ও দক্ষ শ্রমশক্তির বাজার এক অস্বাভাবিক উভয়সংকটের মধ্যে আছে। এই সংকট দূর করতে হলে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বাড়াতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। সনদের জোরে চাকরি পাওয়া যাচ্ছে না, যাবে না—এই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও যদি শিক্ষার্থীদের টনক না নড়ে, তাহলে এই দুর্দশা কোনো দিন ঘুচবে না। দুর্বল শিক্ষাব্যবস্থায়ও ভালো মানের শিক্ষা অর্জন করা একেবারে অসম্ভব নয়, যদি শিক্ষার্থীদের নিজেদের আন্তরিক চেষ্টা থাকে। কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সনদের অপেক্ষায় না থেকে জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর প্রতি মনোযোগী হলে একপর্যায়ে তারাই শিক্ষাব্যবস্থার ঘাটতিগুলো দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারসাধনে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
Share
Banner

freelanceromerfaruk

Post A Comment:

0 comments:

We are proved for you. Thanks For visit my website.